Tuesday, January 6, 2026

Commander




Commander 
Scientific Name : Moduza procris ( Cramer, 1777 ) 
Family : Nymphalidae
Subfamily : Limenitidinae
Tribe : Limenitidini 
Specie : 

Commander প্রজাপতিটি যার বৈজ্ঞানিক হলো হলো Moduza procris (Cramer, 1777),দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বনভূমিতে দেখতে পাওয়া একটি মনোমুগ্ধকর প্রজাতি।  এই প্রজাতিটি Brush-footed Butterflies (Nymphalidae) পরিবারের অন্তর্গত। এদের সামনের পা দুটি খুব ছোট এবং তুলির মতো রোমে ঢাকা থাকে, যা উড্ডয়ন বা বসার সময় ব্যবহৃত হয় না। এর ডানার নকশা এবং রঙের বিন্যাস এতটাই স্বতন্ত্র যে একে সহজেই শনাক্ত করা যায়।


দৈহিক বর্ণনা ঃ  

Commander প্রজাপতিটি মাঝারি আকারের, এর ডানার বিস্তার সাধারণত ৬.০–৭.৫ সেন্টিমিটার।
 প্রাপ্তবয়স্ক প্রজাপতির ডানার উপরিভাগের মূল (ভূমি) রঙ উজ্জ্বল লালচে-বাদামী থেকে উষ্ণ কমলা-বাদামী (ferruginous to orange-brown), এবং গোড়ার অংশে কখনো কখনো সামান্য জলপাই-হলদে আভা পরিলক্ষিত হয়।

সামনের ও পিছনের ডানার মধ্যভাগ বরাবর একটি প্রশস্ত, সুস্পষ্ট দুধ-সাদা থেকে নীলাভ-সাদা অনুপ্রস্থ macular band বিস্তৃত থাকে, যা সামনের ডানার কোষে অবস্থিত বড় ত্রিভুজাকৃতির সাদা দাগ থেকে শুরু হয়ে পিছনের ডানার mid-dorsal অঞ্চলের দিকে প্রসারিত। উড়ন্ত অবস্থায় এটি একটি V-আকৃতির নকশা তৈরি করে। সামনের ডানার শীর্ষভাগের কাছে চারটি সাব-এপিকাল (subapical) সাদা দাগ উপস্থিত থাকে, যেগুলি আকারে ভিন্নতাযুক্ত এবং কালো বর্ডার দ্বারা পরিবেষ্টিত। সামনের ডানার কোষের উপরের ও নিচের অংশে একাধিক সরু কালো দণ্ড (bars) দেখা যায়, এবং ডিসকাল (discal) অঞ্চলে কালো প্রান্তবিশিষ্ট সাদা ম্যাকুলার দাগগুলির (black-bordered white macular spots) একটি সুসংগঠিত বিন্যাস বিন্যাস রয়েছে। ডানার বাইরের প্রান্ত বরাবর একটি প্রশস্ত, ঢেউ খেলানো কালো প্রান্তীয় ব্যান্ড (broad, wavy black marginal band) থাকে, যার ভেতরের প্রান্ত অর্ধচন্দ্রাকৃতি (subcrescentic) বা কখনো কখনো দাঁতাকৃত (occasionally dentate) হয়।এই ব্যান্ডের ভেতরে submarginal অঞ্চলে কালো দাগের একটি সারি এবং সূক্ষ্ম ধূসর ঢেউখেলানো রেখা লক্ষ্য করা যায়।

Hindwing প্রান্ত স্পষ্টভাবে করাতের দাঁতের মতো খাঁজকাটা (crenulated)।প্রতিটি পিছনের ডানায় submarginal ও post-discal অঞ্চলে কালো দাগের দুটি পৃথক সারি উপস্থিত থাকে এবং কোষটি খোলা প্রকৃতির (open cell)।ডানার নিম্নভাগের নকশা উপরিভাগের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হলেও রঙ তুলনামূলকভাবে ফ্যাকাশে।ডানার গোড়ার অর্ধাংশ ফ্যাকাশে নীলচে-ধূসর বা সবুজাভ-ধূসর, যেখানে বাইরের discal অঞ্চল লালচে-বাদামী। অনুপ্রস্থ সাদা macular band টি নিম্নভাগেও দৃশ্যমান থাকে, তবে কম উজ্জ্বল। Marginal ও submarginal কালো দাগগুলি নিম্নভাগে অধিক স্পষ্ট এবং প্রান্তীয় রেখাগুলি ঢেউ খেলানো বা সামান্য খাঁজকাটা প্রকৃতির। মাথা গোলাকার ও মাঝারি আকারের; চোখ বড়, মসৃণ, লোমহীন এবং ব্রোঞ্জি-বাদামী বর্ণের। antennae কালো, মাঝারি দৈর্ঘ্যের এবং ধীরে ধীরে প্রশস্ত হয়ে ডগায় সুস্পষ্ট গদা-আকৃতির (clubbed) স্ফীততা তৈরি করে; নিম্নভাগে ডগার দিকে হালকা লালচে আভা থাকে।labial palpi তুলনামূলকভাবে লম্বা, উপরিভাগ কালো এবং নিম্নভাগ সবুজাভ-সাদা থেকে ধূসর, সূক্ষ্ম লোমে আবৃত। proboscis সম্পূর্ণ বিকশিত, সরু এবং গাঢ় বর্ণের।thorax দৃঢ় ও পেশিবহুল, উপরিভাগ লালচে-বাদামী এবং নিম্নভাগ নীলাভ-ধূসর, সূক্ষ্ম লোমে আবৃত। Nymphalidae পরিবারের বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী সামনের জোড়া পা অত্যন্ত ছোট ও রোমশ, ব্রাশ-সদৃশ এবং চলাচলের কাজে ব্যবহৃত হয় না।মধ্য ও পশ্চাৎ পা তুলনামূলকভাবে লম্বা, শক্ত এবং নীলাভ-ধূসর বর্ণের, সূক্ষ্ম নখরযুক্ত। abdomen সরু, নলাকার এবং মাঝারি দৈর্ঘ্যের; উপরিভাগ লালচে-বাদামী বা মরচে-লাল এবং নিম্নভাগ নীলাভ-ধূসর।abdomen এর খণ্ডগুলো সুস্পষ্টভাবে পৃথক এবং সূক্ষ্ম লোমে আবৃত। 

পুরুষ ও স্ত্রী প্রজাপতির বাহ্যিক দৈহিক গঠনে উল্লেখযোগ্য কোনো যৌন দ্বিরূপতা পরিলক্ষিত হয় না।


 আচরণ ঃ 

Commander প্রজাপতি একটি সক্রিয় ও দৃঢ়চেতা প্রজাতি, যার চলাফেরা ও উড্ডয়নে শক্তিমত্তার ছাপ স্পষ্টভাবে ধরা পড়ে। এদের উড়ান সাধারণত দ্রুত এবং হঠাৎ দিক পরিবর্তনকারী; কখনো জোরালো ডানার ঝাপটায় এগিয়ে যায়, আবার কখনো অল্প সময়ের জন্য নিঃশব্দে ভেসে থাকে। যদিও এরা শক্তিশালী উড়ুক্কু, তবুও এদের গতিবিধি মূলত নির্দিষ্ট এলাকার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে।

প্রাপ্তবয়স্ক কমান্ডার প্রজাপতিরা খাদ্য সংগ্রহের জন্য বিভিন্ন প্রকার ফুলগাছ, ঝোপ ও ভেষজ উদ্ভিদের ওপর নির্ভরশীল। ফুলে বসার সময় এরা খুব বেশি সময় নষ্ট করে না; অল্প সময়ের মধ্যেই মধু গ্রহণ করে পরবর্তী গন্তব্যে চলে যায়।

পুরুষ প্রজাপতিদের আচরণ স্ত্রীদের তুলনায় কিছুটা আলাদা। দিনের উষ্ণ সময়ে এদের প্রায়ই খোলা জায়গায়—যেমন নদীর বালুচর, খালের ধারে, ভেজা রাস্তার অংশ বা বড় পাথরের ওপর বসে থাকতে দেখা যায়। খনিজসমৃদ্ধ স্যাঁতসেঁতে মাটির প্রতি এদের বিশেষ আকর্ষণ রয়েছে, যেখানে তারা দলবদ্ধভাবে পাডলিং করে প্রয়োজনীয় লবণ ও খনিজ সংগ্রহ করে। কখনো কখনো এই কাজে তারা দীর্ঘ সময় ব্যয় করে এবং মাঝে মাঝে রোদ পোহাতে থাকে।

সব মিলিয়ে, কমান্ডার প্রজাপতি একটি একাকী স্বভাবের, আত্মবিশ্বাসী এবং লক্ষ্যভিত্তিক উড্ডয়নকারী প্রজাতি।


আবাস্থল ঃ 

Commander প্রজাপতি সাধারণত নিম্নভূমি থেকে মাঝারি উচ্চতার বনাঞ্চলে বেশি দেখা যায়। আর্দ্র চিরসবুজ বন, আধা-চিরসবুজ বন এবং বনঘেঁষা পাহাড়ি এলাকাই এদের প্রধান আবাসস্থল। উষ্ণ ও আর্দ্র জলবায়ু এই প্রজাতির বিস্তারের জন্য বিশেষভাবে উপযোগী। এসব স্থানে এদের বনপথ ধরে উড়তে, ঝরনা বা ছোট ছড়ার  আশেপাশে ঘোরাফেরা করতে এবং ভেজা মাটিতে বিশ্রাম নিতে দেখা যায়।মূলত  সংরক্ষিত প্রাকৃতিক বনাঞ্চলের ওপর নির্ভরশীল এরা। 

বাংলাদেশের অবস্থান ঃ 

বাংলাদেশে Commander প্রজাপতি একটি স্থানীয়ভাবে সীমিত কিন্তু নিশ্চিতভাবে উপস্থিত প্রজাতি। এদের উপস্থিতি মূলত দেশের বনাঞ্চল ও পাহাড়ি এলাকাগুলোর সঙ্গে সম্পর্কিত।

এই প্রজাপতিটি প্রধানত চট্টগ্রাম বিভাগসিলেট বিভাগের বনভূমিতে দেখা যায়। বিশেষ করে চট্টগ্রাম হিল ট্র্যাক্টস, কক্সবাজারের বনাঞ্চল, লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, রেমা-কালেঙ্গা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য এবং পার্শ্ববর্তী সংরক্ষিত বনাঞ্চলগুলোতে এদের উপস্থিতির তথ্য পাওয়া গেছে।

বৈশ্বিক অবস্থান ঃ 

Commander প্রজাপতি  মূলত দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার একটি বিস্তৃতভাবে দেখতে পাওয়া যায়। এদের বিস্তৃতি ভারতীয় উপমহাদেশ থেকে শুরু করে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশ পর্যন্ত প্রসারিত।এই প্রজাতিটি ভারত, বাংলাদেশ, নেপাল, ভুটান, এবং শ্রীলঙ্কা–তে পাওয়া যায়। বাংলাদেশে কমান্ডার প্রজাপতির উপস্থিতি প্রধানত বনাঞ্চল ও সংরক্ষিত প্রাকৃতিক এলাকায় সীমাবদ্ধ।

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায়র মিয়ানমার, থাইল্যান্ড, লাওস, কম্বোডিয়া, ভিয়েতনাম, মালয়েশিয়া এবং ইন্দোনেশিয়া পর্যন্ত বিস্তৃত। এছাড়াও এটি দক্ষিণ চীন ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলেও নথিভুক্ত হয়েছে।  


জীবনচক্র ঃ 

কমান্ডার প্রজাপতির জীবনচক্র অন্যান্য ন্যাম্পালিড (Nymphalidae) পরিবারের প্রজাপতিদের মতোই চারটি সুস্পষ্ট ধাপে সম্পন্ন হয় ডিম, শুঁয়োপোকা, পিউপা ও পূর্ণাঙ্গ প্রজাপতি।

১. ডিম (Egg) ঃ 

স্ত্রী কমান্ডার প্রজাপতি সাধারণত উপযুক্ত আশ্রয় উদ্ভিদের পাতার ওপর এককভাবে বা অল্প সংখ্যায় ডিম পাড়ে। ডিমগুলো আকারে ছোট এবং পাতার সঙ্গে ভালোভাবে লেগে থাকে, যা প্রাথমিক পর্যায়ে শিকারি থেকে কিছুটা সুরক্ষা দেয়।

২. শুঁয়োপোকা (Larva / Caterpillar) ঃ 

ডিম ফুটে বের হওয়ার পর শুঁয়োপোকা পর্যায় শুরু হয়। এই পর্যায়ে শুঁয়োপোকা সক্রিয়ভাবে আশ্রয় উদ্ভিদের পাতা খেয়ে দ্রুত বৃদ্ধি পায়। বৃদ্ধি চলাকালে এটি একাধিকবার খোলস পরিবর্তন (molting) করে। শুঁয়োপোকা সাধারণত পাতার নিচের দিকে বা গাছের আড়ালে অবস্থান করে, যা তাকে শত্রু থেকে আড়াল করতে সাহায্য করে।

৩. পিউপা বা গুটি (Pupa / Chrysalis) ঃ 

পর্যাপ্ত বৃদ্ধি শেষে শুঁয়োপোকা খাদ্য গ্রহণ বন্ধ করে একটি নিরাপদ স্থানে নিজেকে ঝুলিয়ে পিউপা বা গুটিতে রূপান্তরিত হয়। এই পর্যায়ে বাহ্যিকভাবে কোনো নড়াচড়া দেখা না গেলেও, ভেতরে ভেতরে শুঁয়োপোকা ধীরে ধীরে পূর্ণাঙ্গ প্রজাপতিতে রূপ নেয়।

৪. পূর্ণাঙ্গ প্রজাপতি (Adult) ঃ 

পিউপা পর্যায় শেষ হলে সেখান থেকে পূর্ণাঙ্গ কমান্ডার প্রজাপতি বের হয়। প্রথমদিকে ডানাগুলো নরম ও ভাঁজ করা থাকে, পরে ধীরে ধীরে শক্ত ও প্রসারিত হয়। এরপর প্রজাপতি উড়তে সক্ষম হয় এবং খাদ্য সংগ্রহ, প্রজনন ও প্রজাতির ধারাবাহিকতা রক্ষার কাজে অংশ নেয়।


হোস্ট প্লান্ট : 

(Host Plants of Commander – Moduza procris)

কমান্ডার প্রজাপতির শুঁয়োপোকা সাধারণত বনাঞ্চলে জন্মানো প্রশস্ত পাতার বৃক্ষজাত উদ্ভিদের ওপর নির্ভরশীল বলে ধারণা করা হয়। অন্যান্য ন্যাম্পালিড প্রজাপতির মতোই এ প্রজাতির শুঁয়োপোকারা মূলত বনজ গাছ ও ঝোপজাতীয় উদ্ভিদের পাতা খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে।

প্রাকৃতিক আবাসস্থল ও পারিবারিক বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে অনুমান করা যায় যে, এই প্রজাতির হোস্ট প্লান্টগুলো প্রধানত

  • চিরসবুজ ও আধা-চিরসবুজ বনাঞ্চলের গাছ

  • ছায়াপ্রিয় বনজ উদ্ভিদ

  • ঝোপজাতীয় প্রাকৃতিক উদ্ভিদ

হতে পারে। তবে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে নির্দিষ্ট হোস্ট প্লান্ট সম্পর্কে বিস্তারিত মাঠভিত্তিক তথ্য এখনো সীমিত।

নেক্টার প্লান্ট : 

(Nectar Plants of Commander – Moduza procris)

প্রাপ্তবয়স্ক কমান্ডার প্রজাপতি বিভিন্ন ধরনের ফুলযুক্ত উদ্ভিদ থেকে মধু সংগ্রহ করে। এরা সাধারণত বনাঞ্চল ও বনপ্রান্তে জন্মানো ভেষজ উদ্ভিদ, ঝোপঝাড় এবং ছোট ফুলওয়ালা গাছের প্রতি আকৃষ্ট হয়।

নেক্টার গ্রহণের ক্ষেত্রে কমান্ডার প্রজাপতিরা সাধারণত

  • ছোট থেকে মাঝারি আকারের ফুল

  • খোলা ও সহজে মধু পাওয়া যায় এমন ফুল

  • বনপথ, ঝরনা ও খালের আশেপাশে জন্মানো ফুলগাছ

পরিদর্শন করে। এছাড়াও কখনো কখনো এদের পচা ফল, গাছের রস বা স্যাঁতসেঁতে মাটি থেকে খনিজ গ্রহণ করতে দেখা যায়, যা এদের খাদ্যাভ্যাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।


আত্মরক্ষার কৌশল : 

(Defensive Strategies of Commander – Moduza procris)

১. রঙ ও ছদ্মবেশ (Camouflage) ঃ 

কমান্ডার প্রজাপতির ডানার নিচের দিক সাধারণত বাদামি ও অনুজ্জ্বল রঙের, যা শুকনো পাতা বা গাছের বাকলের মতো দেখায়। প্রজাপতি যখন ডানা বন্ধ করে বসে থাকে, তখন এটি আশপাশের পরিবেশের সঙ্গে মিশে যায় এবং শিকারির চোখে পড়া কঠিন হয়।

২. হঠাৎ উড্ডয়ন (Startle Flight) ঃ

এই প্রজাপতি সাধারণত শান্তভাবে বসে থাকে, কিন্তু বিপদের আশঙ্কা হলে হঠাৎ দ্রুত ও জোরালো উড়ান শুরু করে। আকস্মিক এই উড্ডয়ন অনেক সময় পাখি বা অন্যান্য শিকারিকে বিভ্রান্ত করে।

৩. শক্তিশালী ও অনিয়মিত উড়ান ঃ 

কমান্ডার প্রজাপতির উড়ান শক্তিশালী এবং দিক পরিবর্তনকারী। এই অনিয়মিত ও দ্রুত গতির উড্ডয়ন শিকারিদের জন্য তাকে অনুসরণ করা কঠিন করে তোলে।

৪. নিরিবিলি পরিবেশে অবস্থান ঃ 

এরা সাধারণত ঘন বনাঞ্চল, ছায়াযুক্ত পথ ও ঝরনার আশেপাশে বিচরণ করে। এই ধরনের পরিবেশ শিকারির চাপ তুলনামূলকভাবে কম হওয়ায় এটি একধরনের পরিবেশভিত্তিক আত্মরক্ষা হিসেবে কাজ করে।

৫. বিশ্রামের সময় সতর্কতা ঃ 

বিশ্রাম নেওয়ার সময় কমান্ডার প্রজাপতি সাধারণত দ্রুত পালানোর উপযোগী অবস্থানে থাকে। সামান্য বিরক্তি বা নড়াচড়া অনুভব করলেই এরা উড়ে যায়।

সারাংশ ঃ 

কমান্ডার প্রজাপতি (Moduza procris) ন্যাম্পালিডি পরিবারের একটি শক্তিশালী ও চঞ্চল প্রজাতি, যা মূলত দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বনাঞ্চলে বিস্তৃত। এরা সাধারণত একাকী স্বভাবের এবং বনপথ, ঝরনা ও খালের আশেপাশে বেশি বিচরণ করে।সামগ্রিকভাবে এটি একটি পরিবেশ-নির্ভর, আত্মবিশ্বাসী ও বনবাসী প্রজাপতি, যা সুস্থ বনবাস্তুতন্ত্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে বিবেচিত।


References : 

1. Kehimkar, I. (2016).
Butterflies of India.
Bombay Natural History Society (BNHS), Oxford University Press.

2. Evans, W. H. (1932).
The Identification of Indian Butterflies.
Bombay Natural History Society.

3. Talbot, G. (1947).
The Fauna of British India, Including Ceylon and Burma: Butterflies (Vol. II).
Taylor and Francis, London.

4. Haribal, M. (1992).
The Butterflies of Sikkim Himalaya and Their Natural History.
Sikkim Nature Conservation Foundation.

 5. Kunte, K. (2000).
Butterflies of Peninsular India.Universities Press.

6. Igarashi, S. & Fukuda, H. (2000).
The Life Histories of Asian Butterflies (Vol. 2).
Tokai University Press.

7. Bangladesh Forest Department & IUCN Bangladesh (Various Reports).

এই লেখায় ব্যবহৃত তথ্যসমূহ বিদ্যমান সাহিত্য ও সাধারণ মাঠ পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে উপস্থাপিত; বাংলাদেশে Moduza procris–এর হোস্ট প্লান্ট ও জীবনচক্র সম্পর্কিত বিস্তারিত গবেষণা এখনও সীমিত।

Friday, January 2, 2026

Knight




ফোয়ারা প্রজাপতি 
Knight
Lebadea martha martha Fabricius, 1787 
Kingdom : Animalia
Phylum : Arthropoda
Class : Insecta
Order : Lepidoptera
Family : Nymphalidae
Subfamily : Limenitidinae
Genus : Lebadea C. & R. Felder, 1861
Species : Lebadea martha Fabricius, 1787
Subspecies (Bangladesh): Lebadea martha martha Fabricius, 1787

সাধারণ পরিচিতি : 

Lebadea martha, যা সাধারণভাবে The Knight নামে পরিচিত, হলো Nymphalidae পরিবারভুক্ত একটি মাঝারি আকারের বনপ্রজাপতি। এটি প্রধানত উষ্ণমণ্ডলীয় ও উপ-উষ্ণমণ্ডলীয় এশিয়ায় বিস্তৃত এবং ইন্দোমালয়ান অঞ্চলের একটি সুপরিচিত প্রজাতি। Lebadea গণে বর্তমানে দুটি প্রজাতি পরিচিত Lebadea marthaLebadea alankara যাদের মধ্যে L. martha তুলনামূলকভাবে অধিক বিস্তৃত ও সাধারণ।

বাংলাদেশে এই প্রজাপতিটি Lebadea martha martha উপপ্রজাতি হিসেবে পাওয়া যায় এবং বনাঞ্চলসমৃদ্ধ এলাকায় এটি তুলনামূলকভাবে নিয়মিত দেখা যায়।

General Introduction:
Lebadea martha, commonly known as the Knight, is a medium-sized forest butterfly belonging to the family Nymphalidae. It is primarily distributed across tropical and subtropical Asia and is a well-known species of the Indomalayan region. The genus Lebadea currently includes two recognized species Lebadea martha and Lebadea alankara of which L. martha is comparatively more widespread and common.

In Bangladesh, this butterfly occurs as the subspecies Lebadea martha martha and is relatively regularly observed in forested areas.


দৈহিক বর্ণনা : 
পুরুষ ও স্ত্রী প্রজাপতির মধ্যে সামান্য আকার ও রঙের পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়। স্ত্রী প্রজাপতি সাধারণত আকারে কিছুটা বড় এবং রঙে তুলনামূলকভাবে গাঢ়। পুরুষ প্রজাপতির সামনের পাখার চূড়ায় একটি স্পষ্ট সাদা অংশ উপস্থিত থাকাই মাঠপর্যায়ে লিঙ্গ নির্ধারণের সবচেয়ে সহজ লক্ষণ।

সামনের পাখা (forewing) লম্বা ও সরু এবং শিরা ৬ (vein 6) বরাবর হালকা কাস্তে আকৃতির। এই বৈশিষ্ট্যটি পুরুষ প্রজাপতির ক্ষেত্রে স্ত্রী প্রজাপতির তুলনায় বেশি স্পষ্ট। উপরিভাগ (upperside) হলুদো-বাদামী (ochreous brown) বর্ণের এবং এতে কালচে ঢেউখেলানো রেখা ও অনিয়মিত দাগের সমন্বয়ে জটিল নকশা পরিলক্ষিত হয়।

সামনের পাখায় উভয় লিঙ্গেই একটি প্রশস্ত সাদা discal band উপস্থিত থাকে। পুরুষ প্রজাপতির ক্ষেত্রে এই ব্যান্ডটি আরও স্পষ্ট এবং পিছনের পাখা (hindwing) পর্যন্ত বিস্তৃত হয়, যেখানে এটি ধীরে ধীরে tornus এর দিকে সংকীর্ণ হয়ে যায়।

সামনের পাখার spaces 2–6-এ সাদা অর্ধচন্দ্রাকৃতি দাগ (post-discal lunules) দেখা যায়, যা discal band এর বাইরের প্রান্ত বরাবর বিন্যস্ত। পুরুষ প্রজাপতির সামনের পাখার শীর্ষ অঞ্চল (apical area) স্পষ্টভাবে সাদা রঙের।

উপপ্রজাতি Lebadea martha parkeri এর একটি বৈশিষ্ট্য হলো পিছনের পাখার প্রান্তীয় অংশ (distal part of hindwing) বিস্তৃতভাবে হালকা বেগুনি আভাযুক্ত (pale mauve) রঙে আচ্ছাদিত থাকা। এই বর্ণের বিস্তার ব্যক্তি ভেদে ভিন্ন হতে পারে।

Physical Description:
Slight differences in size and coloration are observed between the male and female butterflies. Females are generally somewhat larger and darker in coloration. One of the easiest field characters for sex identification is the presence of a distinct white patch at the apex of the forewing in males.

The forewings are long and narrow, with vein 6 showing a gently falcate (sickle-shaped) curvature. This feature is more pronounced in males than in females. The upperside is ochreous brown, marked with a complex pattern of dark, wavy lines and irregular markings.

A broad white discal band is present on the forewings of both sexes. In males, this band is more prominent and extends onto the hindwing, where it gradually narrows towards the tornus.

White crescent-shaped post-discal lunules are visible in spaces 2–6 of the forewing, arranged along the outer margin of the discal band. The apical area of the male forewing is distinctly white.

In the subspecies Lebadea martha parkeri, a notable characteristic is the extensive pale mauve suffusion over the distal part of the hindwing. The extent of this coloration may vary among individuals.


আচরণ (Behaviour) : 

Lebadea martha একটি শক্তিশালী ও দ্রুত উড়ন্ত প্রজাপতি। এটি সাধারণত বনপথ, ফাঁকা জায়গা ও ঝোপঝাড়ের আশেপাশে সক্রিয়ভাবে উড়ে বেড়ায়। ছায়াপ্রিয় হলেও রোদযুক্ত স্থানে ডানা মেলে বসে থাকতে (basking) প্রায়ই দেখা যায়।

Behaviour:
Lebadea martha is a strong and fast-flying butterfly. It is typically active along forest paths, open clearings, and around shrubby vegetation. Although it prefers shaded habitats, it is frequently observed basking with wings spread in sunlit patches.

আবাসস্থল (Habitat) :

এই প্রজাতিটি কম থেকে মাঝারি উচ্চতার প্রাথমিক (primary) ও পরিবর্তিত (disturbed) বনাঞ্চলে বসবাস করে। এটি প্রধানত বনভূমির ছায়াযুক্ত পরিবেশে বেশি দেখা যায়, তবে বনপথ, ফাঁকা স্থান ও বনপ্রান্তের কাছাকাছি এলাকাতেও উপস্থিত থাকতে পারে।

Habitat:
This species inhabits low- to mid-elevation primary and disturbed forests. It is most commonly found in shaded forest environments, but it may also occur along forest paths, in clearings, and near forest edges.

অবস্থান : 

বাংলাদেশে Lebadea martha প্রজাতিটি Lebadea martha martha উপপ্রজাতি হিসেবে পাওয়া যায়। এটি দেশের বনভূমি অধ্যুষিত এলাকায়, বিশেষ করে পূর্ব ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বনাঞ্চলে উপস্থিত। চট্টগ্রাম পার্বত্য অঞ্চল, সিলেট অঞ্চল এবং সংলগ্ন বনভূমিতে এই প্রজাতির উপস্থিতি নথিভুক্ত হয়েছে। উপযুক্ত আবাসস্থল থাকলে এটি স্থানীয়ভাবে তুলনামূলকভাবে নিয়মিত দেখা যেতে পারে, যদিও কিছু এলাকায় সংখ্যায় সীমিত হতে পারে।

Distribution:
In Bangladesh, Lebadea martha occurs as the subspecies Lebadea martha martha. It inhabits forested regions of the country, particularly in the eastern and north-eastern forest belts. The species has been recorded from the Chittagong Hill Tracts, the Sylhet region, and adjoining forested areas. Where suitable habitat exists, it may be encountered relatively regularly at a local level, although its numbers can be limited in some areas.

বৈশ্বিক অবস্থান (Global Distribution) : 

Lebadea martha একটি বিস্তৃত ইন্দোমালয়ান অঞ্চলের প্রজাতি। এর বৈশ্বিক বিস্তৃতি দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া জুড়ে বিস্তৃত। এই প্রজাতিটি ভারত, নেপাল, ভুটান ও বাংলাদেশ থেকে শুরু করে মায়ানমার, থাইল্যান্ড, লাওস, কম্বোডিয়া ও ভিয়েতনাম পর্যন্ত বিস্তৃত। এছাড়া দক্ষিণ চীন, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া ও ফিলিপাইনেও এর উপস্থিতি রয়েছে।

এই প্রজাতিটি মূল ভূখণ্ডের পাশাপাশি ইন্দোনেশিয়ার বিভিন্ন দ্বীপে একাধিক আঞ্চলিক উপপ্রজাতি হিসেবে বিস্তৃতভাবে ছড়িয়ে আছে। সামগ্রিকভাবে এটি একটি ব্যাপক বিস্তৃত প্রজাতি হলেও কিছু অঞ্চলে স্থানীয়ভাবে এর উপস্থিতি সীমিত হতে পারে।

Global Distribution:
Lebadea martha is a widely distributed species of the Indomalayan region. Its global range extends across South Asia and Southeast Asia. The species occurs from India, Nepal, Bhutan, and Bangladesh eastwards through Myanmar, Thailand, Laos, Cambodia, and Vietnam. It is also found in southern China, Malaysia, Singapore, Indonesia, and the Philippines.

In addition to the mainland, the species is widely distributed across several islands of Indonesia, where it occurs in multiple regional subspecies. Overall, Lebadea martha is a broadly distributed species, though its presence may be locally limited in certain regions.


জীবনচক্র (Life Cycle) : 

Lebadea martha একটি সম্পূর্ণ রূপান্তরকারী (holometabolous) প্রজাপতি এবং এর জীবনচক্র চারটি ধাপে সম্পন্ন হয়—ডিম, লার্ভা (শুঁড়িপোকা), পিউপা ও প্রাপ্তবয়স্ক প্রজাপতি। প্রজাতিটি বছরে একাধিকবার প্রজনন করে (multivoltine), ফলে বিভিন্ন সময়ে এর বিভিন্ন জীবনধাপ দেখা যেতে পারে।

প্রাপ্তবয়স্ক স্ত্রী প্রজাপতি সাধারণত স্থানীয় খাদ্য উদ্ভিদের পাতার উপর এক এক করে ডিম পাড়ে। ডিমগুলো অল্প কয়েক দিনের মধ্যে ফোটে এবং সেখান থেকে লার্ভা বের হয়। লার্ভা পর্যায়ে শুঁড়িপোকা খাদ্য উদ্ভিদের পাতা খেয়ে দ্রুত বৃদ্ধি পায় এবং একাধিক বৃদ্ধি ধাপ (instar) অতিক্রম করে। এই সময়ে লার্ভাগুলো সাধারণত পাতার উপরেই অবস্থান করে এবং পাতার টিস্যু থেকে খাদ্য গ্রহণ করে।

পূর্ণবয়স্ক লার্ভা পরবর্তীতে খাদ্য গ্রহণ বন্ধ করে একটি উপযুক্ত স্থানে পিউপা (chrysalis) অবস্থায় প্রবেশ করে। পিউপা পর্যায় শেষ হলে এর মধ্য থেকে প্রাপ্তবয়স্ক প্রজাপতি বের হয়। অনুকূল পরিবেশে সম্পূর্ণ জীবনচক্র তুলনামূলকভাবে স্বল্প সময়ে সম্পন্ন হতে পারে, যদিও তাপমাত্রা, আর্দ্রতা ও খাদ্য উদ্ভিদের প্রাপ্যতার উপর এর সময়কাল পরিবর্তিত হতে পারে।

Life Cycle:
Lebadea martha is a holometabolous butterfly, completing its life cycle through four distinct stages egg, larva (caterpillar), pupa (chrysalis), and adult. The species is multivoltine, breeding several times a year, and therefore different life stages may be observed at various times.

Adult females usually lay eggs singly on the leaves of the local host plants. The eggs hatch within a few days, giving rise to larvae. During the larval stage, the caterpillars feed on the leaves of the host plant, grow rapidly, and pass through several instars. At this stage, the larvae generally remain on the foliage and feed on leaf tissue.

When fully grown, the larva ceases feeding and enters the pupal (chrysalis) stage at a suitable site. After completion of the pupal period, an adult butterfly emerges. Under favourable environmental conditions, the entire life cycle may be completed in a relatively short time, however, its duration can vary depending on temperature, humidity, and the availability of host plants. 


হোস্ট প্ল্যান্ট (Host Plants / Larval Food Plants) : 

Lebadea martha এর শুঁড়িপোকা সাধারণত নিচের উদ্ভিদগুলো খায়:

  • Ixora congesta (Family: Rubiaceae)

  • Ixora javanica (Rubiaceae)

  • Ixora lucida (Rubiaceae)

  • Mammea siamensis (Calophyllaceae)

  • Acalypha wilkesiana (Euphorbiaceae)

  • Ziziphus attopensis (Rhamnaceae)

  • এছাড়াও সংরক্ষিত জলাশয় এলাকায় এবং প্রাকৃতিক বনাঞ্চলে কিছু অজানা স্থানীয় উদ্ভিতেও শুঁড়িপোকা খেতে দেখা যায়।

সাধারণভাবে, শুঁড়িপোকা হোস্ট প্ল্যান্টের পাতার উপর ডিম দেয় এবং ডিম ফুটার পর পাতার ল্যামিনা থেকে খাদ্য গ্রহণ শুরু করে।

 Host Plants (Larval Food Plants):

The caterpillars of Lebadea martha are known to feed on the following plant species:

  • Ixora congesta (Family: Rubiaceae)

  • Ixora javanica (Rubiaceae)

  • Ixora lucida (Rubiaceae)

  • Mammea siamensis (Calophyllaceae)

  • Acalypha wilkesiana (Euphorbiaceae)

  • Ziziphus attopensis (Rhamnaceae)

In addition, caterpillars have been observed feeding on some unidentified local plant species in protected wetland areas and natural forest habitats.

Generally, eggs are laid on the leaves of the host plants, and upon hatching, the larvae begin feeding on the leaf lamina.

 

নেক্টার প্ল্যান্ট / প্রাপ্তবয়স্ক খাদ্য (Adult Food / Nectar Plants) :

Lebadea martha প্রাপ্তবয়স্করা সাধারণত নেক্টার এবং অন্যান্য প্রাকৃতিক উৎস থেকে শক্তি সংগ্রহ করে। যদিও ফুল থেকে নেক্টার খাওয়ার বিশেষ পর্যবেক্ষণ খুব সীমিত, দেখা যায়:

  • বিভিন্ন স্থানীয় ফুল ও ঝোপঝাড়ের পুষ্প

  • অতিপক্ক ফল থেকে রস গ্রহণ

  • কাদামাটিতে পানি চুষা (mud-puddling)

  • পশুর মল / পচা ফল থেকেও লবণ ও খনিজ গ্রহণ

অর্থাৎ প্রাপ্তবয়স্ক প্রজাপতি ফুলের নেক্টার ছাড়াও অন্যান্য উৎস থেকেও প্রয়োজনীয় পুষ্টি সংগ্রহ করে।

 

Adult Food / Nectar Plants :

 Adult Lebadea martha butterflies obtain energy from nectar as well as from various other natural sources. Although direct observations of nectar feeding on flowers are relatively limited, the following feeding behaviours have been recorded:

  • Visiting flowers of various local plants and shrubs

  • Feeding on juices from overripe or fermenting fruits

  • Sucking moisture from damp soil (mud-puddling)

  • Obtaining salts and minerals from animal droppings or decaying fruits

Thus, adult butterflies meet their nutritional requirements not only through floral nectar but also by utilizing a range of alternative natural resources.

 

 সারাংশ :

Lebadea martha হলো দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার নাফিলিড প্রজাপতি। স্ত্রী প্রজাপতি কিছুটা বড় ও গাঢ়, পুরুষের সামনের পাখার চূড়ায় স্পষ্ট সাদা অংশ থাকে। সামনের পাখায় উভয় লিঙ্গের discal band এবং spaces 2–6-এ অর্ধচন্দ্রাকৃতি দাগ (post-discal lunules) লক্ষ্য করা যায়। এটি কম–মাঝারি উচ্চতার বনাঞ্চল ও ছায়াযুক্ত পরিবেশ পছন্দ করে, তবে মাঝে মাঝে রোদে ডানা মেলে বসে (basking) দেখা যায়। শুঁড়িপোকা (larva) Ixora spp., Mammea siamensis, Acalypha wilkesiana এবং Ziziphus attopensis এর উপর খায়, এবং প্রাপ্তবয়স্ক প্রজাপতি নেক্টার, ফল ও কাদামাটিতে পানি চুষে শক্তি সংগ্রহ করে। প্রজাতিটি বহুবার প্রজনন করে (multivoltine) এবং বাংলাদেশে মূলত চট্টগ্রাম পার্বত্য, সিলেট ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বনাঞ্চলে পাওয়া যায়। 

Summary:
Lebadea martha is a nymphalid butterfly distributed across South and Southeast Asia. Females are slightly larger and darker in coloration, while males are characterized by a distinct white patch at the apex of the forewing. In both sexes, a discal band is present on the forewing, along with crescent-shaped post-discal lunules in spaces 2–6.

The species prefers low- to mid-elevation forest habitats and shaded environments, though it is occasionally observed basking in sunlight. The larvae feed on Ixora spp., Mammea siamensis, Acalypha wilkesiana, and Ziziphus attopensis, while adults obtain energy from nectar, fruits, and by mud-puddling. The species is multivoltine, breeding several times a year, and in Bangladesh it is mainly found in the forested regions of the Chittagong Hill Tracts, Sylhet, and the north-eastern areas.

References : 

  1. Corbet, A.S. & Pendlebury, H.M. (1992). The Butterflies of the Malay Peninsula, 4th Edition. Malayan Nature Society, Kuala Lumpur.

  2. Evans, W.H. (1932). The Identification of Indian Butterflies, 2nd Edition. Bombay Natural History Society, Mumbai.

  3. Wynter-Blyth, M.A. (1957). Butterflies of the Indian Region. Bombay Natural History Society, Mumbai.

  4. Savela, M. (2023). Lebadea Felder, 1861.” Lepidoptera and Some Other Life Forms.

  5. Beccaloni, G., Scoble, M., Kitching, I., Simonsen, T., Robinson, G., Pitkin, B., Hine, A., Lyal, C. (2016). The Global Lepidoptera Names Index (LepIndex). Natural History Museum, London.

Saturday, December 27, 2025

Common Earl

 



সুর্মা প্রজাপতি 
Common Earl 
Tanaecia julii Lesson,1837





Friday, December 26, 2025

Common Leopard

 


Common Leopard
Phalanta phalantha ( Drury, 1773 )

Kingdom : Animalia
Phylum : Arthropoda
Class : Insecta
Order : Lepidoptera
Family : Nymphalidae
Subfamily : Heliconiinae
Genus : Phalanta Horsfield, 1820
Species : Phalanta phalantha Drury, 1773
Subspecies : Phalanta phalantha phalantha Drury, 1773

IUCN Red List Status (Bangladesh): Least Concern (LC)

Taxonomy follows iFoundButterflies (Kunte et al.),the continuously updated Lepidoptera database by Markku Savela, and Shafique Haider Chowdhury & Monwar Hossain (Butterflies of Bangladesh: A Pictorial Handbook Enlarged Version).



Common Leopard প্রজাপতি (Phalanta phalantha phalantha) Nymphalidae পরিবারের একটি পরিচিত প্রজাপতি। আমাদের দেশে একে চিতা নামে ডাকা হয়ে থাকে । প্রজাপতিটি সূর্যালোক পছন্দ করে এবং দিনে বেশি সক্রিয় থাকে। এটি পরিবেশের সঙ্গে ভালোভাবে মানিয়ে নিতে পারে, ফলে বিভিন্ন ধরনের পরিবেশে সহজে টিকে থাকতে সক্ষম। Common Leopard প্রজাপতি প্রকৃতির জীববৈচিত্র্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ এবং প্রাকৃতিক পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় পরোক্ষ ভূমিকা রাখে।


দৈহিক বর্ণনা ঃ 

প্রাপ্তবয়স্ক কমন লেপার্ড প্রজাপতি (Phalanta phalantha phalantha) আকারে মাঝারি এবং দৃষ্টিনন্দন গঠনযুক্ত। ডানার উপরিভাগ গাঢ় ট্যানি থেকে গভীর কমলা-বাদামি রঙের হয় এবং তাতে স্পষ্ট কালো দাগ ও রেখা থাকে, যা একত্রে প্রজাপতিটির পরিচিত “লেপার্ড-সদৃশ” নকশা তৈরি করে।

সামনের ডানায় কোষীয় অংশটি সূক্ষ্ম কালো রেখা দ্বারা অতিক্রান্ত, যা একটি অনিয়মিত কোষীয় চিহ্ন গঠন করে। ডিস্কাল অঞ্চলে সুস্পষ্ট কালো দাগ দেখা যায়, এর পরে পোস্টডিস্কাল অংশে অর্ধচন্দ্রাকৃতি (লুনিউল) দাগের একটি সারি উপস্থিত থাকে। ডানার প্রান্তের দিকে সাবটার্মিনাল অংশে একটি সূক্ষ্ম কালো রেখা এবং শিরার অগ্রভাগে টার্মিনাল অঞ্চলে কালো দাগের সারি স্পষ্টভাবে লক্ষ্য করা যায়।

পেছনের ডানায় একই ধরনের নকশা অব্যাহত থাকে—ডিস্কাল অঞ্চলে একাধিক কালো দাগ, পোস্টডিস্কাল অংশে অর্ধচন্দ্রাকৃতি দাগের সারি এবং সাবটার্মিনাল অংশে হালকা ঢেউখেলানো কালো রেখা দেখা যায়। প্রান্ত বরাবর শিরার অগ্রভাগে সুশৃঙ্খলভাবে বিন্যস্ত কালো দাগের সারি থাকে।

ডানার নিচের দিকটি তুলনামূলকভাবে ফ্যাকাশে, হালকা কমলা থেকে হলদেটে-কমলা রঙের হয়। এখানে দাগ ও রেখাগুলো উপরের দিকের তুলনায় অনেকটাই ম্লান এবং কালোর পরিবর্তে লালচে-বাদামি রঙের দেখা যায়। পাশ থেকে আলো পড়লে উভয় ডানার পোস্টডিস্কাল ও সাবমার্জিনাল অংশে একটি সূক্ষ্ম কিন্তু স্বতন্ত্র বেগুনি-চকচকে আভা লক্ষ্য করা যায়। নতুন ও অক্ষত ডানাযুক্ত প্রজাপতিতে এই বেগুনি আভা বিশেষভাবে স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

পুরুষ ও স্ত্রী প্রজাপতির রঙ ও নকশায় তেমন পার্থক্য দেখা যায় না; উভয় লিঙ্গেই এই বৈশিষ্ট্যগুলো প্রায় একই রকমভাবে প্রকাশ পায়, যা প্রজাতিটিকে তার স্বতন্ত্র ও সুসংহত দেহরূপের মাধ্যমে সহজেই চেনা যায়।


The adult Common Leopard (Phalanta phalantha phalantha) is a medium-sized butterfly with a striking and well-defined appearance. The upperside of the wings is a rich tawny to deep orange-brown, boldly ornamented with black spots and streaks that give the butterfly its characteristic “leopard-like” pattern. On the forewings, the cell is crossed by fine black lines, forming an irregular cell mark, while the discal area carries distinct spots followed by a postdiscal series of lunulate markings. Towards the wing margin, a fine subterminal line and a terminal row of black spots at the vein ends are clearly visible.

The hindwings continue this pattern with a series of discal spots, a postdiscal row of lunules, and a gently waved subterminal line, ending in a neat terminal row of black spots along the vein tips.

The underside is noticeably paler, appearing light orange to yellowish-orange, with the markings much fainter and rendered in reddish-brown rather than black. When viewed in oblique or side light, a subtle yet distinctive purplish sheen becomes visible, particularly across the postdiscal and submarginal areas of both wings. In fresh individuals with pristine wings, this glossy purple sheen is especially pronounced and adds to the butterfly’s elegant appearance.

Males and females are similar in overall coloration and pattern, showing little obvious sexual dimorphism, making the species readily recognizable by its consistent and bold wing markings. 


আচরণ ঃ 

প্রাপ্তবয়স্ক কমন লেপার্ড প্রজাপতি (Phalanta phalantha phalantha) সাধারণত সক্রিয় ও চঞ্চল স্বভাবের। এটি সূর্যালোক পছন্দ করে এবং দিনের উজ্জ্বল সময়ে বেশি দেখা যায়। উড়ান দ্রুত ও শক্তিশালী হওয়ায় একে দীর্ঘ সময় স্থির অবস্থায় দেখা কঠিন; অল্প সময়ের জন্য পাতায় বা ঝোপের ওপর বসে আবার উড়ে যায়।

এরা প্রায়ই দুই বা তিনটি করে একসঙ্গে ফুলের আশেপাশে উড়ে বেড়ায় এবং বিভিন্ন বন্য ফুল থেকে মধু সংগ্রহ করে। ফুলের ঝোপের চারদিকে এদের ঘোরাফেরা বেশ চোখে পড়ার মতো। পুরুষ প্রজাপতিগুলোকে অনেক সময় নদীর তীরে ভেজা মাটি বা বালিতে বসে খনিজ ও আর্দ্রতা গ্রহণ করতে দেখা যায়। তবে তারা ভেজা স্থানের চেয়ে মূত্রের দাগ বা পচা জৈব বস্তুর প্রতি বেশি আকৃষ্ট হয় এবং কখনও কখনও সেখানে বহু সংখ্যক প্রজাপতি একত্রে জমায়েত হয়।

এই প্রজাতির প্রজাপতিগুলো অস্থির স্বভাবের হওয়ায় আলোকচিত্র ধারণ করা তুলনামূলকভাবে কঠিন। তবুও রৌদ্রোজ্জ্বল পরিবেশে ফুলের কাছে বা ভেজা মাটিতে দলবদ্ধ অবস্থায় এদের আচরণ পর্যবেক্ষণ করা যায়।

অবস্থান (Occurrence / Where Seen) ঃ 

কমন লেপার্ড প্রজাপতি সাধারণত সক্রিয় ও চঞ্চল। দিনের উজ্জ্বল সময়ে এটি সহজেই লক্ষ্য করা যায়। প্রায়ই দুই বা তিনটি করে ছোট দলে ফুলের আশেপাশে ঘুরে বেড়ে মধু সংগ্রহ করে। পুরুষরা মাঝে মাঝে নদীর তীরে ভেজা মাটি বা বালিতে বসে খনিজ গ্রহণ করতে দেখা যায়। তবে তারা মূত্র বা পচা জৈব পদার্থের প্রতি বেশি আকৃষ্ট, এবং কখনও কখনও সেখানে কয়েক ডজন প্রজাপতি একত্রে জমায়েত হয়।

আবাসস্থল (Habitat) ঃ 

এই প্রজাতি বিভিন্ন ধরনের পরিবেশে  যেমন বনাঞ্চল ও খোলা মাঠ, ঝোপঝাড়,শহরের পার্ক, বাগান এবং রাস্তার ধারের ঝোপঝাড়,কৃষিজমির আশেপাশে ভালো ভাবে মানিয়ে নিতে পারে। এটি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১,৫০০ মিটার উচ্চতা পর্যন্ত বিচরণ করতে পারে। নতুন বা প্রাকৃতিক পরিবেশে এই প্রজাপতি তার রঙিন ও চকচকে ডানার মাধ্যমে সহজেই চোখে পড়ে। 

বৈদেশিক অবস্থান (International Distribution) ঃ 

কমন লেপার্ড প্রজাপতি দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিস্তৃত অঞ্চলে দেখা যায়। এটি ভারত, বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান, নেপাল, ভুটান ও মায়ানমার পর্যন্ত বিস্তৃত। আরও পূর্বে, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়ার বিভিন্ন দ্বীপ এবং ফিলিপাইন পর্যন্ত এর উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।

প্রজাতিটি চীনের দক্ষিণাঞ্চল, জাপান ও দক্ষিণ-পশ্চিম আরবিয়ার কিছু অংশেও পাওয়া যায়। আফ্রিকার সাব-সাহারান অঞ্চলে এটি Phalanta phalantha এর ভিন্ন উপপ্রজাতি হিসেবে পাওয়া যায়, যেখানে এটি স্থানীয় পরিবেশে সহজে মানিয়ে নেয়।

এই বিস্তৃত বৈদেশিক বিস্তারই প্রমাণ করে যে কমন লেপার্ড প্রজাপতি পরিবেশের সঙ্গে দ্রুত মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা রাখে এবং উষ্ণ, উপ-উষ্ণ উভয় অঞ্চলের জন্য অভিযোজনযোগ্য।

খাদ্য (Food) ঃ 

হোস্ট প্লান্ট (Larval Host Plants):
লার্ভা বা শিশু প্রজাপতি মূলত পাতাযুক্ত উদ্ভিদ খায়। প্রিয় স্থানীয় হস্ট প্লান্টের মধ্যে রয়েছে:

  • Rukam Asam (Flacourtia inermis)

  • Weeping Willow (Salix babylonica)

  • ম্যাঙ্গো (Mangifera indica)  

 লার্ভা সাধারণত পাতা থেকে পুষ্টি গ্রহণ করে এবং তরুণ ও মধ্যবয়সী পাতা বেশি পছন্দ করে।

নেক্টার প্লান্ট (Adult Nectar Sources) ঃ 
প্রাপ্তবয়স্ক প্রজাপতিরা  নির্দিষ্ট ফুল থেকে মধু সংগ্রহ করে। এর প্রিয় নেক্টার প্লান্টগুলোর মধ্যে রয়েছে:

  • Tridax

  • Common Floss Flower

  • Singapore Daisy

  • Marigold 

  • Eupatorium

  • অন্যান্য স্থানীয় বন্য ফুল

পুরুষ প্রজাপতি মাঝে মাঝে ভেজা মাটি বা বালিতে বসে খনিজ গ্রহণ করে। তারা মূত্র বা পচা জৈব পদার্থের প্রতি আকৃষ্ট হয় এবং সেখানে কখনও কখনও বহু প্রজাপতি একত্রিত হয়।

জীবন চক্র ঃ 

কমন লেপার্ড প্রজাপতির জীবনচক্র চারটি ধাপে বিভক্ত: ডিম, লার্ভা (কেঁচো), পাপা এবং প্রাপ্তবয়স্ক প্রজাপতি। প্রজাপতির মা ডিমগুলো সাধারণত হস্ট গাছের পাতা বা পলকীয় অংশে রাখে। ডিমগুলি ছোট এবং অণ্ডাকার, যা কয়েক দিনে ফুটে লার্ভায় পরিণত হয়।

লার্ভা পর্যায়ে প্রজাপতি দ্রুত বৃদ্ধি পায় এবং হস্ট গাছের নরম ও তরুণ পাতা খেয়ে পুষ্টি সংগ্রহ করে। লার্ভা বিভিন্ন ধাপ বা ইনস্টারে বৃদ্ধি পায়, প্রতিটি ধাপে শারীরিক আকার এবং রঙের কিছুটা পরিবর্তন ঘটে। পর্যাপ্ত খাদ্য ও নিরাপদ পরিবেশ থাকলে লার্ভা দ্রুত পূর্ণবয়স্ক আকারে পৌঁছে।

এরপর লার্ভা একটি পাপা গঠন করে, যা প্রায়শই গাছের পাতার তলদেশে বা নিরাপদ স্থানে ঝুলে থাকে। পাপা পর্যায়ে প্রজাপতির শারীরিক পরিবর্তন ঘটে এবং ডানাসহ প্রাপ্তবয়স্ক প্রজাতির আকার ও রঙ তৈরি হয়। কিছু সময় পরে, প্রাপ্তবয়স্ক প্রজাপতি পাপা থেকে বেরিয়ে আসে এবং কিছুক্ষণ ডানা শুকাতে ও শক্ত হতে অপেক্ষা করে।

প্রাপ্তবয়স্ক প্রজাপতি কয়েক দিনে রঙিন ও চকচকে ডানা নিয়ে সক্রিয়ভাবে উড়তে শুরু করে। তারা ফুল থেকে মধু সংগ্রহ করে এবং পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেয়। লার্ভা ও প্রাপ্তবয়স্ক প্রজাপতির খাদ্য, আবাসস্থল এবং আবহাওয়া তাদের জীবনের প্রতিটি পর্যায়ের সময়কাল প্রভাবিত করে।

প্রাকৃতিক প্রতিরক্ষা (Natural Defense) ঃ 

কমন লেপার্ড প্রজাপতি তার রঙিন ও দাগযুক্ত ডানার মাধ্যমে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বজায় রাখে। ডানার উজ্জ্বল কমলা‑বাদামি রঙ ও কালো দাগ predator‑এর জন্য প্রজাতির আকার এবং সীমা ভাঙতে সাহায্য করে, যা disruptive coloration নামে পরিচিত। এর ফলে শিকারি সহজে প্রজাতিটিকে লক্ষ্য করতে পারে না।

যদিও এই প্রজাপতি বিষাক্ত নয়, এর উজ্জ্বল রঙ এবং স্পটগুলো predator‑এর কাছে সতর্কতার সংকেত হিসেবে কাজ করতে পারে, যা predator‑কে প্রজাতি খাওয়ার আগে পুনর্বিবেচনা করতে বাধ্য করে। এছাড়াও, কমন লেপার্ড প্রজাপতি খুব দ্রুত ও শক্তিশালী উড়ান করে, এবং দীর্ঘ সময় স্থির থাকে না, যা predator‑এর নজর এড়াতে সাহায্য করে।

সংক্ষেপে, এই প্রজাপতির প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা প্রধানত উজ্জ্বল প্যাটার্ন ও রঙ, দ্রুত উড়ান, এবং পরিবেশের সাথে মিলিত কিছু camouflage‑র মাধ্যমে কাজ করে।

হুমকি ও সংরক্ষণ (Threats & Conservation) ঃ 

কমন লেপার্ড প্রজাপতি বর্তমানে বিপন্ন নয় এবং বিস্তৃতভাবে পাওয়া যায়। তবে কিছু স্থানীয় হুমকি রয়েছে, যেমন বনাঞ্চল ও উদ্যানের হ্রাস, রাসায়নিক কীটনাশকের ব্যবহার এবং আবাসস্থলের ক্ষয়। এই কারণে প্রজাতিটি কিছু অঞ্চলে স্থানীয়ভাবে সংখ্যায় হ্রাস পেতে পারে।

সংরক্ষণ ব্যবস্থায় হস্ট ও নেক্টার উদ্ভিদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ। পার্ক, বাগান ও কৃষিজমির আশেপাশে প্রাকৃতিক উদ্ভিদ রাখা প্রজাতির স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সাহায্য করে। সাধারণ পরিবেশে সচেতনতা এবং প্রাকৃতিক অভ্যন্তরীণ উদ্ভিদের সংরক্ষণই এই প্রজাতির সুস্থ অবস্থার জন্য যথেষ্ট।

সারাংশ ঃ 

কমন লেপার্ড প্রজাপতি (Phalanta phalantha phalantha) একটি মধ্যম আকৃতির, উজ্জ্বল কমলা-বাদামি ডানার প্রজাপতি, যা সূর্যালোক পছন্দ করে। এর লার্ভা প্রধানত Rukam Asam, Weeping Willow এবং ম্যাঙ্গো পাতায় বৃদ্ধি পায়, আর প্রাপ্তবয়স্ক প্রজাতি বিভিন্ন বন্য ফুল থেকে মধু সংগ্রহ করে। এটি চঞ্চল ও দ্রুত উড়ন্ত, সাধারণত দুই বা তিনটি করে ছোট দলে দেখা যায়। প্রজাতিটি বন, খোলা মাঠ, সাভানা, পার্ক, বাগান এবং কৃষিজমির আশেপাশে বিস্তৃতভাবে পাওয়া যায় এবং বৈদেশিকভাবে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে আছে। প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় উজ্জ্বল প্যাটার্ন, দ্রুত উড়ান এবং কিছুটা camouflage কাজ করে। বর্তমানে বিপন্ন নয়, তবে স্থানীয়ভাবে আবাসস্থল ক্ষয় এবং রাসায়নিক ব্যবহার কিছু প্রভাব ফেলতে পারে।


References :

  • Kunte, K., Sondhi, S., & P. Roy (Eds.) 2025. Phalanta phalantha (Drury, [1773]) – Common Leopard. Butterflies of India, Indian Foundation for Butterflies. 

  • Phalanta phalantha species account 

  • Common Leopard. LearnButterflies.com — habitat & foodplant notes. 

  • Soman & Kawthankar 2025. Phalanta phalantha larval host plant on Populus ciliata. iFoundButterflies.org. 

  • Wilpattu National Park butterfly list — distribution & plant associations. 


Commander

Commander  Scientific Name : Moduza procris ( Cramer, 1777 )  Family : Nymphalidae Subfamily : Limenitidinae Tribe : Limenitidini  Specie : ...

Popular Posts