শ্বেতদ্রোণ
বাংলা নাম ঃ শ্বেতদ্রোণ, দণ্ড কলস,ঢোল পাতা,মধু গাছ , কানশিরে,কানশিয়া ,কানশিকা ও কানাইবাশি, ধুবরি,দুলফি,কান শিশা,ধুরপ শাক, ডুলফি,হলকষা,দেবদ্রোন ।
English Name : Common Leucas , Thumbai , Leucas এবং Spider Leucas নামেও পরিচিত।
Scientific Name: Leucas aspera (Wild )
Family : Lamiaceae
প্রাকৃতিক ভাবে একটু উঁচু জমিতে জন্ম নেয়া গুল্ম জাতীয় ছোট উদ্ভিদটির নাম শ্বেতদ্রোণ। অঞ্চল ভেদে এর আরো কয়েক রকমের নাম পাওয়া যায় দণ্ডকলস, ঢোল পাতা,মধু গাছ,কানশিরে,কানশিয়া, কানশিকা ও কানাইবাশি, ড্রোণপুষ্পী, গোমধু, দুর্ধুরা। ইংরেজিতে একে Common Leucas , Leucas বা Spider Leucas বলা হয়। যদিও ভারতে Thumbai ও ছোট হালকুসা নামে পরিচিত।শ্বেতদ্রোণ এর বৈজ্ঞানিক নাম Leucas aspera , Lamiaceae ( মিন্ট ) তুলসী পরিবারের অন্তর্গত।
শ্বেতদ্রোণ বর্ষজীবী অল্প সংখ্যক শাখা-প্রশাখা বিশিস্ট উদ্ভিদ। এর কান্ড খাড়া, চার কোণাকার, কিছুটা শক্ত লম্বাটে বল্লমাকৃতির । গাছের পাতা গাঢ় সবুজ রঙের এবং কান্ড হালকা সবুজ হয়ে থকে ।মাটি থেকে এই গাছের উচ্চতা ১ থেকে দেড় মিটার । এর ফুল অনেক ছোট কিন্তু অপূর্ব শ্বেতশুভ্র সাদা রঙের। এ ফুলগুলো গাছের ডগায় গুচ্ছাকারে ফোটে এবং দেখতে অনেকটা তুলসী বা বাসিল ফুলের মতো হলেও এদের সাদা রঙ ও ঘ্রাণ অন্যদের থেকে একে আলাদা করে তোলে। ফুলের মধু মিষ্টি হয়ে থাকে । ফুল থেকে সবুজ রঙের ফল হয় ফল পাকলে ফলের ভিতরে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র প্রচুর বীজ হয়।
ঔষধিগুণের আধার শ্বেতদ্রোণ প্রকৃতির খোলামেলা এক ছোট গাছ, যার শরীরে ও ফুলে লুকিয়ে আছে হাজার বছরের ভেষজ জ্ঞান। গ্রাম অঞ্চলে এর কচি পাতা শাক হিসাবে রান্না করে খাওয়া হয় ।
দন্ড কলসের ওষুধি ব্যবহার:
* সর্দি জ্বর হয়ে শরীর ব্যথা হলে দন্ডকলসের পাতা সিদ্ধ করে কালিজিরা, রসুন কাঁচা মরিচ ভেঁজে পাটায় বেটে ভর্তা করে ভাত দিয়ে খাওয়ানো হয়।
* ছোট বাচ্চাদের সর্দি হলে পাতা বেটে মায়ের দুধের সাথে মিশিয়ে মাথার চাঁদিতে দিয়ে রাখলে সর্দি ভাল হয়ে যায়। এ ছাড়া ছোট বাচ্চাদের সর্দি হলে দন্ডকলসের ফুলের মধু খাওয়ালে ভাল উপকার পাওয়া যায়।
* পেট ফাঁপায় ও বদহজম হলে, এই পাতা সিদ্ধ করে ভর্তা করে খেলে সেই দোষটা সেরে যাবে।
* বাচ্চা এবং বড়দের চোখে ছানি পড়ে বা পানি পড়ে সেই সময় ২ ফোঁটা রস দিলে ভাল উপকার পাওয়া যায়।
* হাঁপানি হলে দন্ডকলসের শিকড় তুলে গোল মরিচের সঙ্গে বেটে খুব ভোরে সূর্য উঠার আগে পিড়িতে সূর্য মুখী হয়ে দাঁড়িয়ে ৩ দিন খেতে হয়। এতে উপকার পাওয়া যায়।
* শরীরে বিষ ব্যথা হলে বা বাতের ব্যথায় দন্ডকলস ছেঁচে রস করে খেতে দেয় এতে উপকার পাওয়া যায়।
ফুলে মধু থাকাতে অনেক পোমাকড় , মোমাছি ও কয়েক প্রজাতির প্রজাপতি দেখা যায় । Club Silverline , Common Gull, Tri-color Pied Flat সহ অনেক প্রজাতির প্রজাপতির নেক্টার প্লান্ট এই শ্বেতদ্রোণ গাছটি ।
তথ্যসূত্র:
১. চিরঞ্জীব বনৌষধি - আয়ুর্বেদাচার্য শিবকালী ভট্টাচার্য,
২. উইকিপিডিয়া
৩. উবিনীগ
৪. প্রাযোগ
৫. ভারতীয় বনৌষধি - ড.কালিদাস বিশ্বাস,
৬. বাংলাদেশ আগাছা পরিচিতি- বাংলা একাডেমী, ঢাকা।

No comments:
Post a Comment