English Name: Peacock Pansy
Scientific Name: Junonia almana ( Linnaeus, 1758 )
Peacock Pansy (Junonia almana) হলো নিম্ফালিডি (Nymphalidae) পরিবারের একটি আকর্ষণীয় ও উজ্জ্বল রঙের প্রজাপতি, যে পরিবারটি সাধারণভাবে brush-footed butterflies নামে পরিচিত। এই পরিবারের প্রজাপতিদের সামনের জোড়া পা আকারে ছোট ও লোমশ হওয়ায় তারা হাঁটার কাজে সেগুলো ব্যবহার করে না, যা তাদের একটি স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য হিসেবে চিহ্নিত করে। পিকক প্যানসি দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াজুড়ে ব্যাপকভাবে বিস্তৃত, এবং এর বিস্তার পূর্বদিকে চীন ও জাপান পর্যন্ত প্রসারিত।
এই প্রজাপতিটি বিশেষভাবে পরিচিত এর মৌসুমভিত্তিক পলিফেনিজম (seasonal polyphenism) এর জন্য, যেখানে একই জেনেটিক প্রজাতি পরিবেশগত পরিবর্তনের প্রতিক্রিয়ায় ভিন্ন ভিন্ন প্রাপ্তবয়স্ক রূপ ধারণ করে। বিশেষ করে বৃষ্টিপাত ও আর্দ্রতার তারতম্যের ফলে এর ডানার রঙ, নকশা ও চোখের দাগে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা যায়। বর্ষা মৌসুমে উজ্জ্বল রঙ ও স্পষ্ট চোখের দাগ শিকারি বিভ্রান্তিতে সহায়তা করে, অন্যদিকে শুষ্ক মৌসুমে ফ্যাকাশে ও পাতার মতো রঙ প্রজাপতিটিকে পরিবেশের সঙ্গে মিশে যেতে সাহায্য করে।
এই সুস্পষ্ট মৌসুমভিত্তিক রূপান্তর পিকক প্যানসিকে প্রজাপতিদের মধ্যে ফেনোটাইপিক প্লাস্টিসিটির (phenotypic plasticity) একটি ক্লাসিক উদাহরণে পরিণত করেছে। পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার এই অসাধারণ ক্ষমতার কারণে Junonia almana বর্তমানে বিবর্তনীয় অভিযোজন, শিকারি–শিকার সম্পর্ক এবং পরিবেশগত প্রতিক্রিয়া নিয়ে গবেষণার একটি গুরুত্বপূর্ণ মডেল প্রজাতি হিসেবে বিবেচিত হয়।
দৈহিক গঠন ঃ
Peacock Pansy (Junonia almana) একটি মাঝারি আকারের প্রজাপতি, যার প্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায় ডানার বিস্তৃতি সাধারণত প্রায় ৫৪–৬২ মিলিমিটার। এর দেহ গঠন দৃঢ় ও সুষম, যা নিম্ফালিড প্রজাপতিদের বৈশিষ্ট্য বহন করে। ডানার উপরের অংশ সাধারণত উজ্জ্বল কমলা–হলুদ বর্ণের, যার ওপর সুস্পষ্ট কালো রেখা ও অলংকৃত চোখের মতো দাগ (eyespots) দেখা যায়। এই চোখের দাগগুলো প্রজাপতির অন্যতম চিহ্নিত বৈশিষ্ট্য, যা সম্ভাব্য শিকারিদের বিভ্রান্ত বা আতঙ্কিত করার মাধ্যমে প্রতিরক্ষামূলক ভূমিকা পালন করে।
সামনের ডানায় একটি বড় ও গোলাকার চোখের দাগ এবং তার আশেপাশে অপেক্ষাকৃত ছোট দাগ ও রেখার বিন্যাস দেখা যায়, আর পেছনের ডানায় অপেক্ষাকৃত বিস্তৃত ও বহুবর্ণের চোখের দাগ উপস্থিত থাকে, যার কেন্দ্রে ক্ষুদ্র সাদা বিন্দু ও চারপাশে কালচে ও নীলাভ আভা লক্ষ করা যায়। ডানার প্রান্ত বরাবর সূক্ষ্ম ঢেউখেলানো কালো রেখা ডানার নকশাকে আরও সুস্পষ্ট ও আকর্ষণীয় করে তোলে।
ডানার নিচের অংশে ঋতুভেদে সবচেয়ে স্পষ্ট পার্থক্য দেখা যায়। শুষ্ক মৌসুমে এই অংশ সাধারণত ফ্যাকাশে ওকার ( Ochre ) বা হলদে–বাদামি রঙের হয়, যেখানে চোখের দাগ খুব কম বা প্রায় অনুপস্থিত থাকে এবং সামগ্রিক নকশা শুকনো পাতার মতো ছদ্মবেশ তৈরি করে। বিপরীতে, বর্ষা মৌসুমে ডানার নিচের অংশ তুলনামূলকভাবে উজ্জ্বল হয় এবং সেখানে স্পষ্ট চোখের দাগ ও গাঢ় রেখা দেখা যায়, যা সবুজ পরিবেশে শিকারিদের বিভ্রান্ত করতে সহায়তা করে।
দেহের রঙ সাধারণত কমলা–বাদামি, নিচের দিক তুলনামূলকভাবে হালকা। মাথা ছোট ও গোলাকার, অ্যান্টেনা গাঢ় বাদামি এবং ডগায় সামান্য মোটা। নিম্ফালিড পরিবারের বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী, সামনের জোড়া পা আকারে ছোট ও লোমশ এবং হাঁটার কাজে ব্যবহার হয় না, ফলে প্রজাপতিটি কার্যত চার পা ব্যবহার করে চলাফেরা করে। পুরুষ ও স্ত্রী প্রজাপতির মধ্যে রঙ ও নকশায় তেমন পার্থক্য দেখা যায় না, তবে স্ত্রী প্রজাপতিগুলো সাধারণত সামান্য বড় আকারের হয়ে থাকে।
আবাসস্থল :
Peacock Pansy (Junonia almana) প্রায় সর্বত্র দেখা যায়। এটি বিশেষভাবে খোলা ও উদ্ভিদসমৃদ্ধ এলাকা পছন্দ করে। ধানক্ষেত, সবজি বাগান, রাস্তার পাশে খোলা প্রান্তর—এই সব জায়গায় প্রজাপতিটির উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। এছাড়াও এটি শহরের পার্ক, বাগান ও জলাশয়ের আশেপাশের সবুজ এলাকায়ও সহজে দেখা যায়।
অবস্থান:
বাংলাদেশে Peacock Pansy (Junonia almana) বিশেষভাবে জাতীয় উদ্যান, সংরক্ষিত বনাঞ্চল, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস, উদ্ভিদবহুল পার্ক ও জলাশয়ের আশপাশে বেশি দেখা যায়। ঢাকার রমনা উদ্যান, চট্টগ্রামের পাহাড়ি এলাকা এবং সিলেট অঞ্চলের খোলা ও সবুজ প্রান্তরে এদের উপস্থিতি তুলনামূলকভাবে নিয়মিত।
প্রজাপতিটি দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিস্তৃত অঞ্চলে পাওয়া যায়। এটি ভারত, শ্রীলঙ্কা ও বাংলাদেশে, মিয়ানমার, থাইল্যান্ড, লাওস, ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া, মালয়েশিয়া ও ফিলিপাইনে, ইন্দোনেশিয়ার দ্বীপপুঞ্জের সুমাত্রা, জাভা, বালি এবং নিউ গিনি ও অস্ট্রেলিয়ার উত্তরাঞ্চলেও দেখা যায়। উষ্ণ ও আর্দ্র জলবায়ুতে এবং যেখানে খাদ্য উদ্ভিদ সহজলভ্য, সেখানেই এই প্রজাপতিটি বিস্তৃত ভাবে দেখা যায়।
পিকক প্যানসি (Junonia almana) প্রজাপতির জীবনচক্র প্রধানত তিনটি পর্যায়ে বিভক্ত: লার্ভা (শুঁয়োপোকা), পিউপা (খোলস), এবং প্রাপ্তবয়স্ক প্রজাপতি।
লাভা (Larva): লার্ভা মূলত পাতা খেয়ে বৃদ্ধি পায়। এটি খাদ্য উদ্ভিদের পাতা খাওয়ার পাশাপাশি শত্রু থেকে রক্ষা পেতে কিছু রাসায়নিক শোষণ করে।
পিউপা (Pupa): লার্ভা পর্যায় শেষ হলে পিউপায় পরিণত হয়। পিউপা অবস্থায় থাকে প্রায় ৯–১৫ দিন।
প্রাপ্তবয়স্ক (Adult): প্রাপ্তবয়স্ক পিকক প্যানসি মূলত ফুলের নেক্টার খায়। শক্তি অর্জন এবং প্রজননের জন্য নেক্টারের পাশাপাশি পুরুষ প্রজাপতি মাঝে মাঝে মাটির লবণ বা আর্দ্র স্থানের খনিজ পদার্থও সংগ্রহ করে।
উদ্ভিদ ও ফুল:
লার্ভার জন্য (Host plants):
-
Calotropis gigantea
-
Calotropis procera
-
Asclepias spp.
প্রাপ্তবয়স্কের জন্য (Nectar plants):
-
Lantana
-
Zinnia
-
Cosmos
-
Ixora
-
Milkweed
ফিল্ড অবজারভেশন:
পিকক প্যানসি (Junonia almana) মেটিং ঃ
স্থান: আদমপুর বন
তারিখ ও সময়: ১৫ মার্চ ২০১৬, সকাল ১০:১০ মিনিট
GPS: [নির্দিষ্ট স্থান উল্লেখযোগ্য]
পর্যবেক্ষণ সময়কাল: ৩৫ মিনিট
আবহাওয়া: তাপমাত্রা ২১° C, আর্দ্রতা ৬০%, বাতাস ৩ কিমি/ঘন্টা, সকালের নরম আলো, ঘন গাছপালা
আচরণ ও পর্যবেক্ষণ:
এক জোড়া পিকক প্যানসি মেটিং অবস্থায় লক্ষ্য করা হয়েছে। পর্যবেক্ষণের শুরুতে তারা ইতিমধ্যেই মেটিং অবস্থায় ছিল, তাই প্রকৃত মেটিং শুরু কখন হয়েছিল তা নির্ধারণ করা যায়নি। পর্যবেক্ষণের সময় তাদের অবস্থান দুইবার পরিবর্তন করতে দেখা গেছে — প্রথমবার প্রায় ৮ মিনিট পরে এবং দ্বিতীয়বার ১২ মিনিট পরে। মেটিং চলাকালীন উভয় প্রজাপতি কয়েকবার ডানা নড়াচড়া করেছে।
মোট ৩৫ মিনিট ধরে তারা মেটিং অবস্থায় ছিল। পর্যবেক্ষণের শেষ দিকে নিচের প্রজাপতিটি হালকা নড়াচড়া করেছে এবং উভয় একসাথে উড়ে যায়।
প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা:
পিকক প্যানসির লার্ভা এবং প্রাপ্তবয়স্করা মূলত মিল্কউইড জাতীয় গাছের পাতা খায়। এই পাতায় থাকা বিষাক্ত রাসায়নিক তাদের শরীরে জমা থাকে, যার ফলে শিকারীরা সহজে এদের খায় না। এছাড়াও প্রাপ্তবয়স্ক প্রজাপতির ডানায় থাকা বড় চোখের দাগ শত্রুদের বিভ্রান্ত করতে সাহায্য করে। কিছু সময় তারা হঠাৎ ডানা নাড়া বা উড়ে যাওয়ার মাধ্যমে শত্রুকে ভয় দেখায়। সব মিলিয়ে, পিকক প্যানসি প্রাকৃতিকভাবে বিভিন্ন রকম কৌশল ব্যবহার করে নিজেদের রক্ষা করে।
সারাংশ:
পিকক প্যানসি প্রজাপতির উজ্জ্বল রঙ ও নিদর্শনের বৈচিত্র্য তাদের পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার এক গুরুত্বপূর্ণ কৌশল। এই বৈশিষ্ট্য প্রজাপতিটির বেঁচে থাকার সম্ভাবনা বাড়ায় এবং প্রজননের ক্ষেত্রে সাহায্য করে। পাশাপাশি, মানুষের সঙ্গে দীর্ঘকালীন সংযোগের কারণে এই প্রজাপতি নিয়ে পর্যবেক্ষণ ও তথ্য সংগ্রহ করা তুলনামূলকভাবে সহজ হয়েছে, যা আমাদের প্রাকৃতিক ইতিহাস এবং প্রজাতি অধ্যয়নে মূল্যবান দৃষ্টিভঙ্গি প্রদান করে।
References:
-
Kunte, K. et al. iFoundButterflies: An Online Database of Indian Butterflies. Continuously updated.
-
Savela, M. Lepidoptera and Some Other Life Forms. Continuously updated database.
-
Shafique Haider Chowdhury & Monwar Hossain. Butterflies of Bangladesh: A Pictorial Handbook – Enlarged Version.
-
IUCN Red List of Threatened Species. Danaus chrysippus / Junonia almana.





No comments:
Post a Comment