Common Crow
Euploea core ( Cramer, 1780 )
Common Crow (Euploea core) প্রজাপতিটি Nymphalidae পরিবারের অন্তর্ভুক্ত একটি সুপরিচিত প্রজাপতির প্রজাতি। এটি ডানাইনি (Danainae) উপপরিবার এবং ডানাইনি (Danaini) গোত্রের সদস্য, যে উপপরিবারে Crows & Tigers প্রজাতির প্রজাপতিগুলোর অন্তর্ভুক্ত। একে ভারতে Common Indian Crow এবং অস্ট্রেলিয়াতে Australian Crow বলা হয় । আমাদের দেশে একে Common Crow বা কাউয়া প্রজাপতি নামে ডাকা হয়ে থাকে ।
Euploea core প্রজাতিটি তার শুঁয়োপোকা অবস্থায় খাদ্যউদ্ভিদ থেকে বিষাক্ত রাসায়নিক উপাদান সঞ্চয় করার ক্ষমতার জন্য পরিচিত, যা পূর্ণবয়স্ক প্রজাপতির মধ্যেও বজায় থাকে। এই বৈশিষ্ট্যের কারণে প্রজাতিটি শিকারিদের কাছে অখাদ্য হিসেবে চিহ্নিত হয় এবং প্রাকৃতিক পরিবেশে তুলনামূলকভাবে নিরাপদ থাকে।
এই প্রজাতির পুরুষ প্রজাপতিগুলো বিশেষ কিছু উদ্ভিদ থেকে রাসায়নিক উপাদান সংগ্রহ করে, যা প্রণয়কালে ব্যবহৃত যৌন ফেরোমোন উৎপাদনে সহায়তা করে। প্রজনন ও আচরণগত বৈশিষ্ট্যের দিক থেকে এটি ডানাইনি উপপরিবারের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিনিধি।
প্রজাপতি বিবর্তন ও পরিবেশগত অভিযোজন নিয়ে গবেষণায় এই প্রজাতিটি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।
দৈহিক গঠন (Morphology / Physical Description) :
ডানার আকার ও রঙ (Wingspan and Coloration):
Euploea core একটি মধ্যম আকারের প্রজাপতি, যার ডানার বিস্তার প্রায় ৮৫–৯৫ মিমি (৩.৩–৩.৭ ইঞ্চি)। উভয় ডানার উপরের দিক গাঢ় বাদামী বা চকচকে কালো, প্রান্ত বরাবর সাদা দাগের সারি থাকে। সামনের ডানায় উপ-প্রান্তীয় (subterminal) এবং প্রান্তীয় (terminal) সাদা দাগগুলো অন্ডাকৃতি বা বাঁকা, মাঝে মাঝে অসম্পূর্ণ। পশ্চাৎ ডানার অভ্যন্তরীণ দাগগুলো লম্বা ও বাহ্যিক দাগগুলো শঙ্কুর মতো।
ডানার নিচের দিক প্রায় একই রকম, তবে রঙ তুলনামূলকভাবে হালকা বাদামী। কোষ, কস্টাল ও ডিস্কাল দাগ প্রায় সর্বদা দেখা যায়। পুরুষ ও স্ত্রী উভয়েই উপরের ও নিচের দিকের প্রান্তীয় সাদা দাগ সমানভাবে থাকে।
লিঙ্গভেদ (Sexual Dimorphism)
পুরুষ প্রজাপতির সামনের ডানার উপরের পৃষ্ঠের পশ্চাৎ প্রান্তের কাছে একটি মখমলের মতো কালো দাগ থাকে, যা pheromone pouch বা scent patch হিসেবে ব্যবহৃত হয়। নীচের দিকেও একই স্থানে একটি সাদা রেখা লক্ষ্য করা যায়। স্ত্রী প্রজাপতির ডানার প্রান্ত তুলনামূলকভাবে সরল এবং pheromone patch নেই।
দেহ (Body)
দেহ গাঢ় বাদামী, মাথা, থোর্যাক্স ও উদরের অংশেও সাধারণত গাঢ় বাদামী। অনেক ক্ষেত্রে থোর্যাক্স বা উদরে ছোট সাদা দাগ দেখা যায়। প্রজাপতির কার্যকর পা মাত্র চারটি; সামনের জোড়া পা সম্পূর্ণভাবে বিকশিত হয় না, যা Nymphalidae পরিবারের সাধারণ বৈশিষ্ট্য।
চোখ, অ্যান্টেনা ও অন্যান্য অঙ্গ (Head, Antennae, and Appendages)
চোখ বড় ও গোলাকার, সাধারণত গাঢ় বাদামী। অ্যান্টেনা সেগমেন্টেড, গাঢ় বাদামী এবং শীর্ষে ক্লাব আকৃতির। পা ও অন্যান্য অঙ্গ proportionate এবং কার্যকর, বিশেষ করে nectar আহরণ ও মাড-পাডলিং এ কাজে লাগে।
ফিল্ড পর্যবেক্ষণে দেখা যায় যে Euploea core একটি শান্ত ও ধীর গতির প্রজাপতি। এটি সাধারণত তাড়াহুড়ো করে উড়ে না; বরং স্থির, নিয়ন্ত্রিত ডানা ঝাপটের মাধ্যমে বাতাসে ভেসে থাকার মতো গ্লাইড করে। উড়ানের সময় ডানাগুলো প্রায় অনুভূমিক অবস্থায় থাকে, যা ডানাইনি উপপরিবারের অন্যান্য অখাদ্য প্রজাপতির বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
মধু আহরণের সময় প্রজাপতিটি অত্যন্ত ধৈর্যশীল আচরণ প্রদর্শন করে। মাঠ পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, এটি একক ফুলের তুলনায় ফুলের গুচ্ছে বেশি সময় ধরে অবস্থান করে এবং দীর্ঘক্ষণ মধু পান করে। এই সময় প্রজাপতিটি সহজে বিরক্ত হয় না এবং মানুষের নিকট উপস্থিতিতেও তুলনামূলকভাবে স্থির থাকে, যা একে কাছ থেকে পর্যবেক্ষণের সুযোগ দেয়।
উষ্ণ ও রৌদ্রোজ্জ্বল দিনে Euploea core কে প্রায়ই স্যাঁতসেঁতে মাটি, ভেজা বালি বা জলধারার ধারে দলবদ্ধভাবে দেখা যায়। এই আচরণকে মাড-পাডলিং (mud-puddling) বলা হয়। পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে যে একাধিক পুরুষ প্রজাপতি একসঙ্গে জমে মাটি থেকে দ্রবীভূত খনিজ ও লবণ গ্রহণ করে। অনেক সময় এরা অন্যান্য ডানাইনি বা একই গণের প্রজাতির সঙ্গে মিশ্র দল গঠন করে।
পুরুষ Euploea core–এর একটি বিশেষ আচরণ হলো নির্দিষ্ট কিছু উদ্ভিদের ক্ষতিগ্রস্ত অংশে উপস্থিত হওয়া। মাঠ পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, তারা এসব উদ্ভিদ থেকে বিশেষ রাসায়নিক উপাদান সংগ্রহ করে, যা পরবর্তীতে যৌন ফেরোমোন উৎপাদনে ব্যবহৃত হয়। প্রণয়কালে পুরুষ প্রজাপতিগুলো ধীর গতিতে গ্লাইড করে উড়ে এবং দেহের পশ্চাৎ অংশ থেকে গন্ধযুক্ত রাসায়নিক সংকেত বাতাসে ছড়িয়ে স্ত্রী প্রজাপতিকে আকর্ষণ করে।
সন্ধ্যার সময় Euploea core প্রায়ই সমবায় বিশ্রাম (communal roosting) প্রদর্শন করে। মাঠ পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, একাধিক প্রজাপতি আধা-ছায়াযুক্ত স্থানে গাছের ডাল বা ঝোপে একত্রে ঝুলে থাকে। শুষ্ক মৌসুমে বা প্রতিকূল পরিবেশে এই ধরনের দলবদ্ধ বিশ্রাম আরও স্পষ্টভাবে লক্ষ্য করা যায়।
সামগ্রিকভাবে, Euploea core–এর আচরণ তার অখাদ্যতা ও শক্তি সংরক্ষণ কৌশলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত। এই বৈশিষ্ট্যগুলো মাঠ পর্যবেক্ষণে একে একটি স্বতন্ত্র ও সহজে শনাক্তযোগ্য প্রজাতি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে।
ফিল্ড পর্যবেক্ষণ ও গবেষণায় দেখা গেছে যে Euploea core একাধিক অভিযোজনমূলক বৈশিষ্ট্য প্রদর্শন করে, যা প্রাকৃতিক পরিবেশে বেঁচে থাকার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।
অনুকরণ (Mimicry)
Euploea core অখাদ্য প্রজাতি হওয়ার কারণে অন্যান্য প্রজাপতিদের জন্য একটি “মডেল” হিসেবে কাজ করে। উপমহাদেশে দেখা যায়, অনেক প্রজাতি এই প্রজাপতির রঙ, প্যাটার্ন ও উড়ানের ধীরগতি অনুকরণ করে (Batesian mimicry)। এতে শিকারিদের চোখে এই প্রজাতিগুলোও অখাদ্য মনে হয়, যা তাদের বেঁচে থাকার সম্ভাবনা বাড়ায়।
কিছু Euploea প্রজাতি একে অপরকে অনুকরণ করে, যা Mullerian mimicry হিসেবে পরিচিত। মাঠ পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, একাধিক প্রজাতি একসাথে একই রঙ ও প্যাটার্নে গুচ্ছবদ্ধভাবে উড়ে বা বিশ্রাম করে, যা শিকারিদের জন্য বিভ্রান্তিকর সংকেত সৃষ্টি করে।
রাসায়নিক প্রতিরক্ষা (Chemical defense)
শুঁয়োপোকা অবস্থায় Euploea core খাদ্য উদ্ভিদ থেকে Pyrrolizidine alkaloids সংগ্রহ করে। পূর্ণবয়স্ক প্রজাপতিতেও এই রাসায়নিক উপাদান থাকে। মাঠ পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, শিকারিরা প্রাথমিকভাবে এগুলো আক্রমণ করতে পারে, কিন্তু রাসায়নিক স্বাদের কারণে প্রায়শই দ্রুত ত্যাগ করে। এই রাসায়নিক প্রতিরক্ষা প্রজাতিটিকে নিরাপদ রাখে এবং অন্যান্য ডানাইনি প্রজাতির জন্যও একটি শিক্ষণীয় উদাহরণ তৈরি করে।
দলবদ্ধতা ও অভিবাসন (Aggregation and Migration)
Euploea core প্রজাপতিগুলো সমবায় বিশ্রাম বা বিশাল দলবদ্ধ অভিযানের অংশ হিসেবে দেখা যায়। শীতকালীন বা উষ্ণতার পরিবর্তনের সময় এরা বড় দল গঠন করে নিরাপদ আশ্রয়ে যায়। মাঠ পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, এমন দলগুলোর মধ্যে কয়েকশো থেকে হাজার প্রজাপতি থাকতে পারে, যা শিকারির নজর এড়াতে সাহায্য করে।
আচরণগত অভিযোজন (Behavioural adaptations)
পুরুষ প্রজাপতিগুলো নির্দিষ্ট উদ্ভিদ থেকে রাসায়নিক উপাদান সংগ্রহ করে যৌন ফেরোমোন তৈরি করে। এই ধীর এবং নিয়ন্ত্রিত প্রক্রিয়া mating success বাড়াতে সহায়ক। মধু আহরণ এবং মাড-পাডলিং–এ ধৈর্যশীল আচরণ প্রজাতিটিকে শক্তি সংরক্ষণ ও পুষ্টি সংগ্রহে সক্ষম করে।
মোটকথা, Euploea core–এর মিমিক্রি, রাসায়নিক প্রতিরক্ষা, দলবদ্ধতা ও ধীরগতি উড়ান একত্রে প্রজাতিটিকে প্রাকৃতিক পরিবেশে টিকে থাকতে সহায়তা করে। মাঠ পর্যবেক্ষণে এই বৈশিষ্ট্যগুলো স্পষ্টভাবে লক্ষ্য করা যায় এবং এগুলো অন্যান্য গবেষণার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সরবরাহ করে।
জীবনচক্র (Life Cycle / Developmental Stages)
Euploea core–এর জীবনচক্রে চারটি প্রধান ধাপ রয়েছে: ডিম (Egg), শুঁয়োপোকা (Larva), পিউপা (Pupa / Chrysalis) এবং পূর্ণবয়স্ক প্রজাপতি (Adult)।
-
ডিম (Egg): স্ত্রী প্রজাপতি সাধারণত খাদ্যউদ্ভিদের পাতায় এককভাবে ডিম পাড়ে। ডিমগুলো আকারে ছোট এবং প্রায় দেহের রঙের সঙ্গে মেলানো।
-
শুঁয়োপোকা (Larva / Caterpillar): শুঁয়োপোকাগুলো মূলত খাদ্য উদ্ভিদ থেকে খাদ্য গ্রহণ করে দ্রুত বৃদ্ধি পায়। ক্ষেত্রবিশেষে শুঁয়োপোকার দেহে রঙিন ব্যান্ড বা চিহ্ন দেখা যায়, যা শিকারির নজর এড়াতে সাহায্য করতে পারে। কিছু প্রজাতির ক্ষেত্রে নরম টেন্টাকল বা পুরুদেহের অংশ থাকে, যা সম্ভাব্য প্রতিরক্ষা বা সেন্সরীয় কাজে আসে।
-
পিউপা (Pupa / Chrysalis): শুঁয়োপোকা পর্যায়ের শেষে পিউপায় রূপান্তর ঘটে। পিউপা প্রাথমিকভাবে হালকা রঙের হয়, পরবর্তীতে ধীরে ধীরে রূপালী বা অন্যান্য প্রাকৃতিক পরিবেশের সঙ্গে মেলানো রঙ ধারণ করে। এই সময়কাল কিছু সপ্তাহ স্থায়ী হয়, এবং এর ভেতরে পূর্ণবয়স্ক প্রজাপতির বিকাশ ঘটে।
-
পূর্ণবয়স্ক প্রজাপতি (Adult): পিউপা থেকে বের হওয়ার পর প্রজাপতি প্রায় কয়েক ঘণ্টার মধ্যে উড়তে সক্ষম হয়। পূর্ণবয়স্ক Euploea core মধু আহরণ, মাড-পাডলিং এবং প্রজননমূলক কার্যক্রমে নিয়োজিত হয়।
উদ্ভিদ ও ফুল:
লার্ভার জন্য (Host plants):
-
Calotropis gigantea
-
Calotropis procera
-
Asclepias spp. (Milkweed জাতীয় উদ্ভিদ)
প্রাপ্তবয়স্কের জন্য (Nectar plants):
-
Lantana
-
Zinnia
-
Cosmos
-
Ixora
-
Milkweed (Asclepias spp.)
বাংলাদেশে কমন ক্রো প্রজাপতি (Euploea core) হলো একটি সাধারণ ও সুন্দর প্রজাপতি, যা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে দেখা যায়। এটি দেখতে চকচকে কালো, ডানার প্রান্ত বরাবর সাদা দাগ থাকে এবং ধীর ও শান্ত গতিতে উড়ে।
এই প্রজাতি মূলত নদী উপত্যকা, জঙ্গল, পার্ক, বাগান এবং শহরের সবুজ এলাকায় বিচরণ করে। বিশেষ করে যেখানে মাটিতে আর্দ্রতা থাকে বা ফুলগুচ্ছগুলো প্রচুর, সেখানে কমন ক্রো প্রজাপতি সহজেই দেখা যায়। বাংলাদেশের সমতলভূমি ও মধ্য উচ্চতার বনাঞ্চলে এটি তুলনামূলকভাবে বেশি পরিমাণে পাওয়া যায়।
শুধু বনাঞ্চল নয়, এরা মানব আবাসিক এলাকায়ও স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে। উদ্যান ও পার্কে লান্টানা, হিবিস্কাস, বুগেনভিলিয়া জাতীয় ফুলে মধু আহরণ করতে আসতে দেখা যায়। প্রজাতিটির লার্ভা বিভিন্ন উদ্ভিদে খাদ্য গ্রহণ করে, আর পূর্ণবয়স্ক প্রজাপতি ফুলের নেক্টার পছন্দ করে।
কমন ক্রো প্রজাপতি প্রায়ই মাটির স্যাঁতসেঁতে অংশে দলবদ্ধভাবে দেখা যায়, যেখানে তারা পুষ্টি ও আর্দ্রতা সংগ্রহ করে। এছাড়া তারা বিভিন্ন প্রজাতির প্রজাপতির সঙ্গে মিশ্রভাবে উড়ে, যা প্রাকৃতিক পরিবেশে তাদের নিরাপত্তা ও বেঁচে থাকার সম্ভাবনা বাড়ায়।
বাংলাদেশের প্রাকৃতিক পরিবেশের সঙ্গে কমন ক্রো প্রজাতির এই অভিযোজন এবং স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ বিচরণ এটিকে দেশের প্রাকৃতিক পরিবেশের এক চমৎকার উপাদান হিসেবে তুলে ধরে।
বৈশ্বিক অবস্থান (Global Distribution) ঃ
কমন ক্রো প্রজাপতি, Euploea core, পৃথিবীর উষ্ণ ও আর্দ্র অঞ্চলে স্বাচ্ছন্দ্যে উড়ে বেড়ায়। দক্ষিণ এশিয়ার সবুজ বন, বাগান এবং খোলা মাঠ থেকে শুরু করে অস্ট্রেলিয়ার উপকূল পর্যন্ত এর বিস্তৃতি বিস্ময়কর। এটি ভারত, বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তান থেকে মিয়ানমার, থাইল্যান্ড, লাওস, ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর এবং ইন্দোনেশিয়ার জাভা, সুমাত্রা, সুলাওয়েসি ও লেসার সুন্দা দ্বীপপুঞ্জ জুড়ে দেখা যায়। পূর্ব এশিয়ায় চীন ও হংকং পর্যন্ত এর উপস্থিতি রয়েছে। অস্ট্রেলিয়ায় এটি কুইন্সল্যান্ড, উত্তর নিউ সাউথ ওয়েলস, পশ্চিম অস্ট্রেলিয়া, অ্যাডিলেড, লর্ড হাও দ্বীপ এবং অ্যালিস স্প্রিংস পর্যন্ত বিস্তৃত। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ২,৪০০ মিটার উচ্চতার পাহাড় পর্যন্ত কমন ক্রো খুঁজে পাওয়া যায়। এর বিস্তৃত ভৌগোলিক উপস্থিতি এবং অভিযোজন ক্ষমতার কারণে এটি ইন্দোমালয় জীববৈচিত্র্য অঞ্চলের অন্যতম সুপরিচিত প্রজাপতি।
সারাংশ ঃ
Euploea core, বা কমন ক্রো, দক্ষিণ এশিয়া থেকে অস্ট্রেলিয়া পর্যন্ত বিস্তৃত একটি সাধারণ প্রজাপতি। এটি Nymphalidae পরিবারের Danainae উপপরিবারের অন্তর্গত এবং Danaini গোত্রের অংশ। শুঁয়োপোকা অবস্থায় এটি খাদ্য উদ্ভিদ থেকে বিষাক্ত রাসায়নিক সংগ্রহ করে, যা পূর্ণবয়স্ক প্রজাপতির মধ্যেও থাকে এবং শিকারিদের কাছে অখাদ্য হিসেবে কাজ করে। পুরুষ প্রজাপতিগুলো নির্দিষ্ট উদ্ভিদ থেকে রাসায়নিক সংগ্রহ করে যৌন ফেরোমোন উৎপাদন করে, যা প্রজননে সহায়ক। এই প্রজাতি অনুকরণমূলক আচরণ প্রদর্শন করে, যেখানে অন্যান্য প্রজাপতি এর রঙ ও প্যাটার্ন অনুকরণ করে বেঁচে থাকার সম্ভাবনা বাড়ায়। Euploea core মধু আহরণ, মাড-পাডলিং এবং দলবদ্ধ অবস্থান প্রদর্শন করে, যা শক্তি সংরক্ষণ এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। এর বৈশিষ্ট্যগুলো প্রাকৃতিক পরিবেশে টিকে থাকার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
References :
1. Evans, W.H. (1932). The Identification of Indian Butterflies. Bombay Natural History Society, Mumbai.
2. Kunte, K. (2000). Butterflies of Peninsular India. Hyderabad: Universities Press.
3. Cramer, P. (1780). Uitlandsche Kapellen. Amsterdam.
4. Wynter-Blyth, M.A. (1957). Butterflies of the Indian Region. Bombay Natural History Society.
5. Robinson, G.S., Ackery, P.R., Kitching, I.J., Beccaloni, G.W., & Hernández, L.M. (2001). Hostplants of the Moth and Butterfly Caterpillars of the Oriental Region. The Natural History Museum, London.
6. Australian Museum. Common Crow Butterfly (Euploea core).
7. https://en.wikipedia.org/wiki/Euploea_core?utm_source=chatgpt.com
No comments:
Post a Comment